ইতালিতে এর একটি বড় উদাহরণ তৈরি হয়েছে পনির শিল্পে। দেশটির বিখ্যাত পারমিজানো রেজ্জিয়ানো পনির উৎপাদন এখন তীব্র গরমের চাপে পড়েছে। একদিকে বাড়ছে সংরক্ষণ ব্যয়, অন্যদিকে কমছে গরুর দুধ উৎপাদন। সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছে প্রায় ৪৭০ কোটি ডলারের এ শিল্পে। খবর ফরচুন।
ইতালির এমিলিয়া-রোমানিয়া অঞ্চলের পাহাড়ে একটি ব্যাংকের ভল্টে সংরক্ষিত আছে পাঁচ লাখের বেশি পারমিজানো রেজ্জিয়ানো পনিরের চাকতি। এসব পনিরের মোট মূল্য ৩০ কোটি ইউরোর বেশি। ভল্টটির মালিক ইতালির ব্যাংক ক্রেডিটো এমিলিয়ানো বা ক্রেডেম। ১৯৫৩ সাল থেকে স্থানীয় দুগ্ধ খামারিদের কাছ থেকে পনির জামানত হিসেবে নিয়ে ঋণ দিয়ে আসছে ব্যাংকটি।
পনিরকে জামানত হিসেবে ব্যবহারের কারণ এর দীর্ঘ পরিপক্বতার সময়। পারমিজানো রেজ্জিয়ানো বিক্রির উপযোগী হতে অন্তত ১২ মাস সময় লাগে। ছোট পারিবারিক খামারগুলোর পক্ষে এত দীর্ঘ সময় পনির মজুদ রেখে নগদ অর্থের প্রবাহ বজায় রাখা কঠিন। তাই ব্যাংক পনিরের মূল্যের একটি অংশ আগেই ঋণ হিসেবে দেয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তন এ ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। চলতি বছর ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে পনির সংরক্ষণের জন্য দৈনিক বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
ফলে ব্যাংকে শীতলীকরণ ব্যবস্থা ও বয়লার উন্নত করতে হয়েছে। বাড়াতে হয়েছে ভবনের তাপ নিরোধক ব্যবস্থা। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে।
সমস্যা শুধু পনির সংরক্ষণে নয়। খামারিদের মতে, তীব্র গরমে গরুও কম খাচ্ছে এবং বেশি সময় শুয়ে থাকছে। এতে দুধ উৎপাদন বছরে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। দীর্ঘ ও তীব্র তাপপ্রবাহ আরো নিয়মিত হলে দুধের পরিমাণের পাশাপাশি মানও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে পনির উৎপাদনের খরচ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।